আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিদ্রোহীসহ চারজন বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত সোমবার রাত নয়টায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চারটিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের এক প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন,তিনি স্থানীয় এমপি’র বিয়াই(ভাতিজির শ্বশুর)। আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিদ্রোহীসহ চারজন বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত সোমবার রাত নয়টায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।নির্বাচনে বিজয়ীরা হলেন হাতীবান্ধা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ শাজাহান খান ৪ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রনি আহমেদ পেয়েছেন ৩ হাজার ১৭৯ ভোট।হতেয়া-রাজাবাড়ী ইউনিয়নে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ হুমায়ুন খান ৩ হাজার ৮৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ৫বারের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৯০ ভোট।কালিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জামাল হোসেন ৭ হাজার ২৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত দেলোয়ার হোসেন সাথী পেয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৭ ভোট।বড়চওনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আজহারুল ইসলাম ৪ হাজার ৫৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কৃসক শ্রমিক জনতা লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম সরকার লাল ৪ হাজার ৪৮১ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ আলী ভূঁইয়া ১হাজার ৪৪৭ ভোট পেয়েছে,ভোট কম পাওয়াতে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে জানা গেছে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে সরকারি কোষাগারে পাঁচ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়। সেই জামানতের টাকা ফেরত পেতে ওই ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ পেতে হয়। যেসব প্রার্থী এই সংখ্যক ভোট পাবেন না, তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।এর আগে সখিপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।তবে এ নির্বাচনে ৫৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৫টি কেন্দ্রই ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে।হতেয়া কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে আইনশৃংখলা বাহিনী কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এসময় ডেলটা টাইমস পত্রিকার মির্জাপুর প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ আহত হয়।