আর মাত্র ৮ দিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এবার মেয়র পদে ৯ জন, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৬৭ জন, সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ১৭৯ জনসহ মোট ২৫৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ নির্বাচনে। বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভোটারদের কাছে টানছেন তারা, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

তবে নির্বাচনকে ঘিরে ৩৩টি ওয়ার্ডের অলিতে-গলিতে চলছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক। আচরণবিধি অমান্য করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন অনেক কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বেশিরভাগ কাউন্সিলর প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। রংপুর জাতীয় পার্টির দূর্গ হলেও তিনভাগের একভাগ ওয়ার্ডে জাপা সমর্থিত কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী না থাকায় তারা মনোযোগ দিয়েছে লাঙ্গল মার্কার মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে।

যার ফলে, আচরণবিধি লঙ্ঘনে এগিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি ওয়ার্ডেই চলছে একে অপরের দিকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে। অনেক এলাকার ভোটাররা বলছেন, এখনই যা শুরু হয়েছে নির্বাচন পর্যন্ত কি হবে তা আমাদের জানা নেই। আচরণবিধি লঙ্ঘনে এগিয়ে রয়েছে ১, ২, ৩, ১০, ১১, ১২, ১৬ ও ১৯ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহানগরীর ১৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এক কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ কম-বেশি সকল প্রার্থীদের। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিদিনই মোটরসাইকেলে মিছিল এবং শোডাউন করেন তার কর্মীসমর্থকরা। ভোটের মাঠে বিভিন্ন প্রার্থীদের কর্মীসমর্থকদের নানাভাবে লাঞ্ছিতও করছেন তার সমর্থকরা। অলিতে-গলিতে স্থাপন করেছেন একাধিক নির্বাচনি ক্যাম্প। অন্যদিকে ৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আরেক কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি গ্রহণের।

তবে এসব মানতে রাজি নন তারা। তবে এসব বিষয়ে কথা হলে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মোঃ আবদুল বাতেন বলেন, আচরণবিধি উপেক্ষার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই তাদের অ্যাকশন শুরু হয়ে গিয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে এমন অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করবো আমরা।