ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই পেন্টাগন তাদের ক্যাজুয়ালটি ডেটাবেসে (ডিসিএএস) চুপিসারে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করে হতাহতের এই হিসাবে পরিবর্তন এনেছে। গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নতুন হিসাবকে মূলত মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন এড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, কাকতালীয়ভাবে ঠিক ওই দিনটিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর দাবি করেছিলেন।
শনিবার হালনাগাদ করা পেন্টাগনের নতুন তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে সিএনএনের পর্যবেক্ষণে আহতের সংখ্যা ৪৮২ জন থাকলেও, নতুন তালিকায় তা এক লাফে ১৪০ জনের বেশি বেড়েছে। ফিরে এসেছে বাদ পড়া নিহত চার সেনার নামও। জর্ডান ও উত্তর ইরাকে প্রাণ হারানো সেনারাও এই তালিকায় রয়েছেন।
গত সপ্তাহে ডেটাবেসে হতাহতের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেলে ১২ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চান। জবাবে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ সামাজিক মাধ্যমে এটিকে নিছক ‘সাময়িক ডেটা বিভ্রাট’ বলে দাবি করেন। তবে শুক্রবার সিএনএনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও রোববার পর্যন্ত পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি।
পেন্টাগনের এই ৭ জুলাইয়ের নতুন হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকাউস্কি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, প্রশাসন মূলত কৌশলে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে। তবে গত মে মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা এই আইনটিকে পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছিলেন।











