সাম্প্রতিক
বগুড়ায় হবে বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল মোহনগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা। রাকিব সভাপতি, অপু সাধারণ সম্পাদক পটুয়াখালীর গলাচিপায় ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার খাবারের প্রলোভনে সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত কিশোর সংশোধনাগারে দুর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৪ ভেকু জব্দ ও ৬টি নিষ্ক্রিয় সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের কাছে বিপুল অস্ত্রসহ ২৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ সখিপুরে একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক নারী গ্রেফতার জুলাই পদযাত্রায় মুন্সীগঞ্জের নিমতলায় এনসিপির পথসভা ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাজী সাইমুম বানারীপাড়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

খাবারের প্রলোভনে সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত কিশোর সংশোধনাগারে

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় গত ১২ জুলাই বিকেলে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদে নিয়ে প্রতিবেশী ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্র এই পাশবিক নির্যাতন চালায়, যার ফলে শিশুটি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। ঘটনার সময় প্রতিবেশী রাবেয়া খাতুন ভিকটিমকে চিৎকার করতে শুনে এগিয়ে এলে ধর্ষক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিকটিমের যৌনাঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটিয়েছে। এই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সোমবার (১৩ জুলাই ‘২৬) সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার ভয়াবহতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কিশোরকে কালিগঞ্জের নলতা থেকে উদ্ধার করে স্বজনরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে খাবারের লোভ দেখিয়ে ওই মাদ্রাসা ছাত্র শিশুটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার সময় ভিকটিমের চিৎকারে প্রতিবেশী রাবেয়া খাতুন এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারতো। বর্তমানে ভিকটিম সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার। ভিকটিমের মা ও স্বজনরা দ্রুত আইনি বিচার প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযুক্ত কিশোরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, জনরোষ থেকে বাঁচতে সে আত্মগোপন করেছিল এবং পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ‘২৬) আত্মসমর্পণ করে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় জড়িত কিশোরের পাশাপাশি অন্য কোনো প্ররোচনাকারী আছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, কারণ শিশু বয়সে এমন অপরাধ সংগঠনের পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক নজরদারির অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, মামলার পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে তার ডাক্তারি পরীক্ষা ও ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত কিশোরের আত্মীয় ও বুধহাটা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য শিস মোহাম্মদ জেরী জানান, মব জাস্টিস বা গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে তারা নিজেরাই পুলিশকে খবর দিয়ে অভিযুক্তকে হস্তান্তর করেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের স্থান ও পদ্ধতির বিষয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার সাথে অভিযুক্তের নিজের বক্তব্যের কিছুটা ভিন্নতা দেখা দিয়েছে, যা মামলার তদন্তে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মঈনুদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত কিশোরকে শিশু আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে যশোরের পুলেরহাট শিশু ও কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

এই ঘটনাটি সাতক্ষীরার সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা সংঘটিত এমন অপরাধের প্রবণতা সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়কে নির্দেশ করে। ভুক্তভোগী শিশুর যথাযথ পুনর্বাসন এবং অভিযুক্তের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে। এছাড়া, শিশু আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভিকটিমের শারীরিক ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও পরিবারগুলোর সচেতনতা বৃদ্ধিই ভবিষ্যতে এমন জঘন্য অপরাধের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে পারে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :