সাম্প্রতিক
আইনজীবীদের হামলায় শিক্ষার্থীসহ ৭ জন আহতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাবুগঞ্জে রমরমা মাদক ব্যবসা: হুমকির মুখে তরুণ সমাজ, জিরো টলারেন্স নীতির দাবিতে সচেতন মহল বিএনপি শুধু ছাত্রদল-যুবদলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক হামলা বন্ধের পর জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ২.২ শতাংশ রাজিবপুরে ইউপি সদস্য পদে সবার দোয়া ও সমর্থন চাইলেন জহুরা খাতুন কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্টিত মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা ঝুঁকিতে রোগী-স্বজন, দ্রুত সংস্কারের দাবি কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ট ওসি মনোনীত জিয়া হায়দারেে প্রচেষ্টায় হতে যাচ্ছে নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী”

চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ফিরেছে জমির প্রাণ, স্বস্তিতে তিন হাজার কৃষক

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার দীর্ঘদিনের ভরাট হয়ে পড়া খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পানি ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে ফিরেছে পানি প্রবাহ, কমেছে জলাবদ্ধতা, বেড়েছে সেচ সুবিধা এবং উপকৃত হচ্ছেন প্রায় তিন হাজার কৃষক। উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের ভাতকাঠী ও আদাখোলা এলাকা এবং রাজাপুর সদর ইউনিয়নের ছোট কৈবর্তখালী থেকে বড় কৈবর্তখালী পর্যন্ত মোট চার কিলোমিটার খাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পুনঃখনন করা হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হয়েছে এক কোটি তিন লাখ টাকারও বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো পলি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে পড়ায় পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়তেন কৃষকরা। খাল পুনঃখননের ফলে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সোহরাব মোল্লা, আজিজ, আফজাল, কামরুল, ইছাসহ স্থানীয় একাধিক কৃষকরা জানান, এখন খালে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ থাকায় সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও কমেছে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে তারা আশাবাদী। খাল পুনঃখননের সুফল শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়। খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের খাদ্য ও আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পানির সংকটে থাকা প্রায় ৫০০ পরিবার এখন দৈনন্দিন কাজে সহজেই পানি ব্যবহার করতে পারছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ২৩৮ জন উপকারভোগী ৪০ কর্মদিবস কাজ করেছেন। তারা দৈনিক ৫০০ টাকা করে মজুরি পেয়েছেন। এতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।
রাজাপুর সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আল আমিন বলেন, “আগে জমিতে পানি আটকে থাকত, ফলে ফসলের ক্ষতি হতো। আবার সেচের জন্যও নানা সমস্যা ছিল। খাল খননের পর কৃষকরা অনেক সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে রাস্তা হওয়ায় মানুষের চলাচলও সহজ হয়েছে।”
বড়ইয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোসা. মাকসুদা আক্তার বলেন, “খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কৃষির পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বেড়েছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিউল বাশার বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “খাল খননের ফলে কৃষিজমির জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। আমরা নিয়মিত কাজ তদারকি করছি এবং কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়নি, বরং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে রাজাপুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :