সাম্প্রতিক
ভারতে পুলিশি লাঠিচার্জে অনড় ককরোচ পার্টি, রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগ দাবিতে রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতাদের বিক্ষোভ রাজবাড়ীতে ১০ লাখ টাকার ড্রেন সাত দিনেই ধস, জলাবদ্ধতায় ফের বিপাকে কৃষক তানোরে বাল্য বিয়ে”শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়া শিশু মুক্ত ঘোষনা অনুষ্ঠিত গলাচিপায় অবৈধ ৩০’টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর চকরিয়ায় ভিক্ষুক পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগ, সহায়তা পেলেন ১৭ জন র‍্যাবের অভিযানে কালীগঞ্জে ৫৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মুক্তাগাছা পৌরসভা পরিদর্শনে ডিডিএলজি ময়মনসিংহ ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: নড়াইলে উত্তেজিত জনতার গণ ধোলাইয়ের পর আটক নির্মাণ শ্রমিক রবি বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

রাজবাড়ীতে ১০ লাখ টাকার ড্রেন সাত দিনেই ধস, জলাবদ্ধতায় ফের বিপাকে কৃষক

রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাউরিয়া, বসুপাড়া ও ধেরওয়িল গ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ড্রেন নির্মাণের মাত্র সাত দিনের মাথায় ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, নির্মাণসামগ্রীর নয়, বরং মিস্ত্রির কাজের ত্রুটির কারণেই ড্রেনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বিবিজি (BBG) বিশেষ কিস্তির আওতায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল কাউরিয়া, বসুপাড়া ও ধেরওয়িল গ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণের মাত্র সাত দিনের মধ্যেই ড্রেনটির একাধিক অংশ ধসে পড়েছে। কোথাও দেয়াল ভেঙে পাশের অংশের ওপর হেলে পড়েছে, আবার কোথাও বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনের মুখে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না। ফলে আবারও বিল ও ফসলি জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় রড ও পিলার ছাড়াই দায়সারাভাবে কাজ করায় সামান্য বর্ষণের পানির চাপেই ড্রেনটি ধসে পড়ে।
কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের বিলের পানি বের করার জন্য চেয়ারম্যান একটি ড্রেন নির্মাণ করে দেন। কিন্তু নির্মাণের মাত্র সাত দিনের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়ে। এখন বৃষ্টির পানি মাঠে জমে থাকায় আমরা চাষাবাদ করতে পারছি না।”
আরেক কৃষক মোজাহার হোসেন বলেন, “এখানে প্রায় ৫০০ বিঘা জমি রয়েছে। জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি ধসে যাওয়ায় আবারও জমিতে পানি জমে আছে। এতে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ রহমান বলেন, “কৃষকদের স্বার্থে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো রড বা পিলার ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে কাজ করায় অল্প সময়েই পুরো ড্রেনটি ধসে পড়ে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্মাণকাজে যুক্ত এক শ্রমিক জানান, চেয়ারম্যান প্রায় প্রতিদিনই কাজের স্থানে উপস্থিত থেকে নির্দেশনা দিতেন। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যানের নিজস্ব ইটভাটার নিম্নমানের ইট নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজিব মোল্লা বলেন, “আমি নির্মাণসামগ্রী কম দিইনি। মিস্ত্রির কাজের ত্রুটি থাকতে পারে। ড্রেনটি যেহেতু ভেঙে গেছে, আমরা দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করব।”
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, “ড্রেন ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। ড্রেনটি পুনর্নির্মাণ বা প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ মিললে চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, কাউরিয়া, বসুপাড়া ও ধেরওয়িল গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় শত শত একর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল নতুন ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু নির্মাণের মাত্র সাত দিনের মাথায় ড্রেনটি ধসে পড়ায় সেই আশা ভেঙে গেছে। এখন আবারও জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য ফসলহানির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকার শত শত কৃষক।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :