খুলনার দিঘলিয়ায় আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া গাজী বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের দায়ে বরখাস্ত

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটী ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান গাজী জিয়া গাজীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন না  করে  চূড়ান্ত বিল পরিশোধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপন জানা যায়, সেনহাটী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে বাস্তবায়নাধীন দুটি উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ওই প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গত ১৬ মার্চ ২০২৬ এবং ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুটি প্রকল্পের বিল পরিশোধ করেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের মতে, উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে  জিয়া গাজী  ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয়। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে। দিঘলিয়ার সেনহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ইতিপূর্বে আলোচিত এই চেয়ারম্যান ২০১৬ সালে দুস্থদের ১৪০ বস্তা চাউল আত্মসাতের দায়ে তৎকালীন ইউএনও আব্দুর রহমান
  বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং – ০৫ । পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক মামলাটির তদন্তে থাকাকালীন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন।
এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তা, স্কুল শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও চাঁদাবাজি মামলার বাদীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
২০১৬ সালে চাঁদাবাজির অভিযোগে শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন, মামলা নং -০৬ । মামলা দায়েরের কারণে মামলার বাদীকে পথেরবাজ উজ্জ্বলের চায়ের দোকানে ফেলে বেধড়ক মারধর করে।
চন্দনীমহল ইয়াসিন হত্যা মামলার ০৪ নং আসামি ছিল এই চেয়ারম্যান।
২০২০ সালে অবৈধ  সুবিধা না পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও রয়েছে।
এছাড়া পথের বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেও লাঞ্ছিত করেছে গাজী জিয়া।
২০২৪ সালে চন্দনীমহল কাঁটাবন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছেন এই চেয়ারম্যান। সেই ঘটনায় বিএনপি নেতা কাজী আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন মামলা নং – ০৩ ।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে যৌথবাহিনী তাকে নগরীর শিরোনামি এলাকা থেকে আটক করে চালান দেয়।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও
স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার
উপ- সচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদ সহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিধায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top