‎যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছেন তার পরিবার।
‎অভিযুক্ত মো. হাসান টুমচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কালিচর গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। নিহত গৃহবধূর ফাতেমা বেগম (২৬)।
‎আজ রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিহত ফাতেমার পরিবারের সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। এতে বক্তব্য দেন নিহত ফাতেমার বাবা আবুল খায়ের, মা মরিয়ম বেগম, ভাই আবু হেনা।
‎নিহতের ভাই আবু হেনা বলেন, ‘হাসান ও ফাতেমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ৭ বছর আগে তারা বিয়ে করে। বিয়ের ৩ মাস পর থেকেই হাসান আমার বোনকে নির্যাতন করত। তাদের সংসারে দুটি মেয়ে ও ৬ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। গত বুধবার ফাতেমা আমাদের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে যায়। হাসান এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ওই টাকা না পেয়ে আমার বোন খালি হাতে ফেরে। পরদিন সকালে আমরা জানতে পারি ফাতেমা আর বেঁচে নেই। পরে হাসান হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।’
‎তিনি আরও বলেন, ‘হাসান পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া হলে আমার বোনকে আরও মারধর করত।’
‎আবু হেনা অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানায় নিলেও পরবর্তীতে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকনের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
‎যৌতুক না দেওয়ায় হাসান পরিকল্পিতভাবে ফাতেমাকে হত্যা করেছে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিচারের দাবি জানিয়েছে নিহতের মা, বাবা ও প্রতিবেশীরা। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা নেওয়া হয়নি বরং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তাদের।
‎তবে অভিযুক্ত মো. হাসান দাবি করে বলেন, ‘আমি ফাতেমাকে হত্যা করিনি। সে স্ট্রোক করে মারা গেছে।’
‎জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন বলেন, ‘দুই পক্ষ থানায় উপস্থিত ছিল। আপাতত পুলিশ হাসানকে আমার জিম্মায় দিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‎লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ভোরে ফাতেমাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে দুপুরে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’
‎লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘হাসানকে আটক করা হয়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে যুবদল নেতা লিংকনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।